জিলহজ মাস ইসলামী ক্যালেন্ডারের ১২তম মাস। এটি হজ ও কুরবানির মাস, আর এর প্রথম ১০ দিনকে আল্লাহ তাআলা বিশেষ বরকত ও ফজিলতের অধিকারী করেছেন। কুরআন ও সহিহ হাদীসসমূহে এর অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
📖 কুরআনের আলোকে:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَالفَجْرِ وَلَيَالٍ عَشْرٍ
“শপথ ফজরের, আর শপথ দশ রাতের।”
—(সূরা আল-ফজর: ১-২)
🔹 তাফসির: অধিকাংশ মুফাসসিরগণ বলেন, এই "দশ রাত" দ্বারা জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাত বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ স্বয়ং এই রাতগুলোর শপথ করেছেন, যা তাদের মর্যাদার অন্যতম প্রমাণ।
🌟 হাদীসের আলোকে:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, " مَا الْعَمَلُ فِي أَيَّامِ الْعَشْرِ أَفْضَلَ مِنَ الْعَمَلِ فِي هَذِهِ ". قَالُوا وَلاَ الْجِهَادُ قَالَ " وَلاَ الْجِهَادُ، إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ يُخَاطِرُ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ بِشَىْءٍ ".
🕌অর্থ- যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের ‘আমলের চেয়ে অন্য কোন দিনের ‘আমলই উত্তম নয়। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ছাড়া যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।
— (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৯৬৯)
🕋 হজ ও কুরবানির মর্যাদা:
জিলহজ মাসে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ আদায় করা হয়। ১০ তারিখে ঈদুল আজহা এবং কুরবানির ইবাদত আদায় করা হয়, যা ত্যাগ ও তাকওয়ার প্রতীক।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
" مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ "
"কোরবানীর দিন মানুষ যে কাজ করে তার মধ্যে আল্লাহ তা’আলার নিকট সবচাইতে পছন্দনীয় হচ্ছে রক্ত প্রবাহিত করা (কুরবানী করা)।"
—(তিরমিজি, হাদীস:
১৪৯৩)
🌙 জিলহজ মাসে করণীয় আমলসমূহ:
✅ নফল রোযা রাখা, বিশেষ করে ৯ জিলহজ (আরাফার দিন)।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
"صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ"
“আরাফার দিনের রোযা আগের ও পরের এক বছরের গুনাহ মোচনের উপায় বলে আমি আশা করি।”
—(সহীহ মুসলিম: ২৬৩৬)
✅ তাকবির, তাহলিল, তাহমিদ বলা:
اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
✅ কুরবানি করা, ১০-১২ জিলহজের মধ্যে।
✅ সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, সদকা, নফল ইবাদত, এবং দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা।
✅ উপসংহার:
জিলহজ মাস ও এর প্রথম দশ দিন ইসলামী জীবনে এক অপূর্ব সুযোগ। আমাদের উচিত এই দিনগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত করা, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
🕌 আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে এই মহিমান্বিত দিনগুলোর বরকত লাভে ধন্য করেন। আমিন।
🔁 পোস্টটি শেয়ার করুন, যেন অন্যরাও জিলহজের ফজিলত সম্পর্কে জানতে পারে!
✍️ আপনার মতামত নিচে মন্তব্যে জানাতে ভুলবেন না!
0 Comments:
Post a Comment